শুক্রবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

হিন্দু ধর্ম কেন সর্বশ্রেষ্ঠ এবং শান্তির ধর্ম?


 
পিতা মাতা কে সম্মান - একমাত্র হিন্দু ধর্মে পিতা মাতা কে সর্বাধিক সম্মান দেওয়া হয়।  ধর্মে বলা হয়
"
পিতা স্বর্গ, পিতা ধর্ম পিতাহিপরমন্তপ
পিতরী প্রিতিমাপন্নে প্রিয়ন্তে সর্বদেবতাঃ"
এখানে পিতাকে স্বর্গ এবং ধর্ম স্বরূপ বলা হয়ে থাকে।  আবার ধর্মে বলা হয়
"
জননী জন্মভুমিশ্চ স্বর্গাদপী গরিয়সী"।  সনাতন ধর্মে মায়ের স্থান সবার উপরে।  স্বর্গের থেকেও উপরে মা এর স্থান।
ধর্মে নিজের মা বাবার এক পায়ে হাত দিয়ে প্রনাম করা যায়না।  তাই অতি সহজেই বোঝা যায় ধর্ম পিতা মাতা কে সর্ব উচ্চ স্থান দিয়েছে।
সমগ্র মানব জাতির ধর্মঃ- সনাতন ধর্ম কোন ব্যক্তি বিশেষ বা স্থান বিশেষের নয়।  সমগ্র মানব জাতির জন্য। 
ধর্মে কেউ বিধর্মী, কেউ কাফের না।  সবাই মানুষ।  ধর্মে আছে কাউকে হত্যা করা উচিৎ না। বেদবিনাশিনং নিত্যং য এনমজমব্যয়ম।
কথং স পুরুষঃ পার্থ কং ঘাতয়তি হন্তি কম ।।  ( সাংখ্যযোগ ।২১)
স্ত্রী জাতির সম্মানঃ- হিন্দু ধর্মে নারী কে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছে।  ধর্মে মেয়ে দের কে জননী জন্মভূমিশ্চ সর্গাদপী গরীয়সী বলা হয়েছে।  প্রাচীন কালে - গার্গী,অপালা, মৈত্রেয়ী,ঘোষা বিখ্যাত মহিলা পণ্ডিত ছিলেন।
সনতন ধর্মেই স্ত্রী জাতি কে মা বলে সম্মান করা হয়।  এই মা - এর দ্বারা শয়তান শক্তি বিনাশ হয়েছিল।  সুতরাং দেখাই যাচ্ছে ধর্ম মাকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছে।
সর্বজীবে প্রেমঃ সনতন ধর্মে শুধু মাত্র মানুষ না।  সমস্ত অবলা জীবকে সম্মান দেখান হয়।  ধর্মে কালো কুকুর শয়তান না।  ধর্মরাজ যুধিষ্ঠি একটা কুকুরের জন্য স্বর্গ থেকে নেমে এসেছিলেন।  গরু কে আমরা মা রূপে সম্মান দি।  গাছকে পুজা করা হয়।
প্রার্থনার স্বাধীনতাঃ সনাতন ধর্মে কোন বাধা ধরা নিয়ম নেই।  কোন মানুষ সারাদিনে যে কোন সময় ভালবেসে ভক্তি ভরে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন, ঈশ্বর তা গ্রহন করেন।
যে যথা মাম প্রপদ্যন্তে তাংস্তথৈব ভজাম্যহম
মম বত্মারনুর্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সর্বশঃ ।।  (৪/১১)
অর্থাৎ যে আমাকে যেই রূপে ডাকবে আমি তাকে সেই ভাবে সাড়া দেব।  তাই বলা হয় ভক্তের ভগবান।
৬।  কর্মফলঃ  সনতন ধর্মাবলম্বী মানুষেরা কর্মফলে বিশ্বাসী।  তারা বিশ্বাস করে যে ভালো কাজ করিলে সবাই ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করবে ও স্বর্গলাভ করবে। 
গুরুত্বপূর্ণ ব্যপার হল -> সনাতন ধর্মের কোন অদি নেই, শেষ নেই, যদি ভালো কাজ করা হয় তা হলে সুখ শান্তি বিরাজমান ও জীবন স্বর্গস্বরূপ হয়ে উঠবে।


প্রজিৎ কুমার রায় এম.এ.এল.এল.বি
বীর মুক্তিযোদ্ধা
সহকারী পুলিশ কমিশনার, ডিএমপি (অবঃ)
সাবেক কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালায়।
ম্যানেজার, এক্সটার্নাল এফেয়ার্স
কার্নিভাল ইন্টারনেট, ঢাকা
সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি, মহানগর কমিটি, ঢাকা ও
নির্বাহী সদস্য, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি।
  ও সহধর্মিনী
শ্রীমতি স্মৃতি কনা রায়, সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা- হিঃ মঃ সঃ সঃ সঃ ।

স্বধর্ম ত্যাগ করলে কি হয়?


ac.jpgBoudi.jpg
২৮ টি নরকের মধ্যে অন্যতম ভয়ংকরী নরক হলো" অসিপত্রবন"। যে ব্যক্তি স্বধর্ম পরিত্যাগ করে অন্য ধর্ম বা পরের ধর্ম গ্রহন করেন তাহারা মৃত্যুর পর এই নরকে পতিত হয়। যমদূত গন অতি গরম তাপের কীটের জলে তাকে ফেলিয়ে তার দেহে কষাঘাত করতে থাকে, তখন সে সহ্য না করতে পেরে ছোটাছুটি করতে থাকে, তখন অতি ধারালো তালবনের অসিপত্র দ্বারা তার দেহ কেঁটে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন সে চিৎকার করে বলে "আমি হত হলাম, আমাকে ছেড়ে দাও"।  বরং যমদূতগন না ছেড়ে অবিরাম তাকে অসহ্য যন্ত্রণা দিতে থাকে। এই ভাবে মৃত্যুর পর তারা অনেক অনেক বছর এই ভয়ংকরী নরকে কষ্ট যন্ত্রণা ভোগ করে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছেন- "ওঁ শ্রেয়াস্ম্বর্মো বিগুনোঃ পরা ধর্মা স্বপুঠিতাৎ স্ব ধর্মে নিধনং শ্রেয়ং পরো ধর্মো ভয়াবহ''। শ্রীমদ্ভাগবত গীতাতে ৩/৩৫ স্বধর্মে যদি দোষ থাকে তাও পরো ধর্ম হতে ভালো।  স্বধর্মে সাধনে যদি মৃত্যু হয় তাও মঙ্গলজনক।  বর্তমানে কিছু ছেলে মেয়েরা লোভে, সামান্য সুখের জন্য নিজের ধর্ম পরিত্যাগ করেন, কিন্তু তারা ভাবেনা যে কি মহা অন্যায় তারা করছে এবং একাল ও পরকাল সারা জীবন তাদের কষ্ট ভোগ করতে হয়।


প্রজিৎ কুমার রায় এম.এ.এল.এল.বি
বীর মুক্তিযোদ্ধা
সহকারী পুলিশ কমিশনার, ডিএমপি (অবঃ)
সাবেক কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালায়।
ম্যানেজার, এক্সটার্নাল এফেয়ার্স
কার্নিভাল ইন্টারনেট, ঢাকা
সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি, মহানগর কমিটি, ঢাকা ও
নির্বাহী সদস্য, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি।  ও সহধর্মিনী
শ্রীমতি স্মৃতি কনা রায়, সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা- হিঃ মঃ সঃ সঃ সঃ ।

রেস্টুরেন্ট_HD